যাদবপুরের ঘরে ঘরে জন্ডিস, প্রশ্নে জলের মান

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশের বাসিন্দাদের পেটের অসুখ পিছু ছাড়ছে না গ্রীষ্মে। গত বছর ছিল ডায়েরিয়া। আর এ বার হেপাটাইটিস। ঘরে ঘরে জন্ডিসের থাবা যাদবপুরের অনেকখানি এলাকা জুড়ে। বিষয়টি জানার পরে ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, 'এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি পুরসভায় সিএমওএইচ-কে চিঠি দিয়েছি।'বাঘাযতীন, পাটুলি, গাঙ্গুলিবাগান এলাকায় গত বছর প্রচুর মানুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর এ বার গরমে বিদ্যাসাগর, রামগড়ের বড় অংশে হেপাটাইটিস এ-র প্রাদুর্ভাব। এক মাস ধরে মানুষ জন্ডিসের শিকার হচ্ছেন সেখানে। স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে রোগীদের লম্বা লাইন। জলবাহিত এই রোগ নিয়ে কয়েক জন ভর্তিও হয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালে। কলকাতা পুরসভায় চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন স্থানীয় ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। জলের পাইপলাইনে কোথাও কোনও ত্রুটি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।বাঘাযতীন বিদ্যাসাগর এলাকার ৪ নম্বর কলোনি, রামগড়ের কিছু জায়গা ও বিদ্যাসাগর কেয়াবাগান অঞ্চল ঘুরে শুধুমাত্র বুধবার ৪০টি ঘরে জন্ডিসের খোঁজ মিলেছে। কয়েক জন সদ্য হেপাটাইটি থেকে সেরে উঠেছেন। বিদ্যাসাগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, এক পরিবারের দুই সদস্য মৌসুমি ও তমালি নাহা হেপাটাইটিসে ভুগছেন। গৃহকর্তা সুভাষ নাহা জানান, সপ্তাহখানেক ধরে তাঁর স্ত্রী মৌসুমি কিছু খেতে পারছিলেন না। চোখের সাদা অংশ ক্রমশ হলদেটে হতে থাকে। সঙ্গে জ্বর, গা-বমি ভাব। সুভাষের ভাইঝি তমালিরও এক উপসর্গ। স্থানীয় চিকিৎসক সঞ্জয় দাশগুপ্ত দু'জনের রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। তাতে দেখা যায়, রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।সঞ্জয়ের ব্যাখ্যা, 'পরিস্রুত পানীয় জল পান করেও হেপাটাইটিস এ থেকে নিস্তার পাওয়া মুশকিল। কারণ জলবাহিত এই জীবাণু সহজে হাত-মুখ ধোওয়া, বাসন মাজা কিংবা স্নানের সূত্রে সেঁধিয়ে যায় শরীরে। পুরসভার সরবরাহ করা জল যদি অপরিস্রুত হয়, তখন তা সামান্য একটু পেটে গেলেই সংক্রমণের আশঙ্কা। সংক্রমণটা আদতে হেপাটাইটিস এ। যার কবলে পড়লে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায়। তখন শরীর হলুদ হয়ে ওঠে। সেই উপসর্গের নাম জন্ডিস।' তিনি জানান, এক মাস ধরে রোজই এক-দু'জন করে জন্ডিস রোগী আসছেন তাঁর ক্লিনিকে।দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৌভিক চৌধুরী তিন সপ্তাহ ধরে হেপাটাইটিস এ-তে শয্যাশায়ী। ওই বাড়িতে তাঁর আত্মীয় শুভজিৎও এক রোগে ভুগছেন। শুভজিতের কথায়, 'ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে সদ্য চাকরি পেয়েছি। কিন্তু শুরুতেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম।' বিদ্যাসাগর চার নম্বর কলোনির তরুণ রাজ বিশ্বাস জন্ডিস নিয়ে বিবিএ-র পরীক্ষা দিতে ছুটছেন সল্টলেকে। তাঁর পড়শি সূর্য শূরও এক রোগের শিকার। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বিদ্যাসাগর বেলতলার মীনাক্ষি মজুমদারকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তাঁর আত্মীয় সহেলি মজুদার, শ্রীহান মজুমদার ও দেবাংশু চক্রবর্তীও হেপাটাইটিস এ-র শিকার। রামগড়ের দুই বোন সঞ্চারি ও শ্রেয়সী দত্ত এই রোগের কোপে। ওই পাড়ায় অন্তত ১০ জন জন্ডিসে ভুগছেন।পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জলের নমুনা সংগ্রহ করেন। যদিও পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, 'আমার কাছে এ ব্যাপারে এখনও কোনও খবর নেই।'

from Eisamay http://bit.ly/2JMWgRS

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.