এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: লাহোরের (Lahore) কাছে পাকিস্তানের শেখুপুরায় শুক্রবার যাত্রিবাহী বাসের সঙ্গে একটি ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ শিখ তীর্থযাত্রীর () মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, তীর্থযাত্রীদের নিয়ে যাওয়া বাসটি রেলওয়ে ক্রসিং পেরোনোর সময় দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা শাহ হুসেন এক্সপ্রেস (Shah Hussain Express) ট্রেনটি ধাক্কা মারে। ট্রেনের ধাক্কায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় বাসটি। মৃত্যু হয় ১৯ শিখ তীর্থযাত্রীর। ওই বাসটির চালকও মারা গিয়েছেন বলে লোকাল মিডিয়ার দাবি। জানা গিয়েছে, নানকানা সাহিব থেকে লাহোরের দিকে যাওয়া অভিশপ্ত ওই বাসটিতে কমপক্ষে ২৫ পুণ্যার্থী ছিলেন। পাকিস্তান রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ফারুকাবাদ ও বহালিওয়ালার মাঝে, এক রেল ক্রসিংয়ে। জানা গিয়েছে, পেশোয়ারের সাচা সৌদা গুরুদ্বার থেকে ওই বাসে করে শিখ পুণ্যার্থীরা লাহারের বাড়িতে ফিরছিলেন। ট্রেনটিও করাচি থেকে লাহোরে ঢুকছিল। শেখপুরা জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় আহত ৬০ জন সেখানে ভর্তি রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ট্রেনের যাত্রীই বেশি। অধিকাংশেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (Pak Prime Minister) (Imran Khan )। আহতরা যাতে সেরা চিকিত্সা পান, সেই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন ইমরান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রহরীবিহীন ওই ক্রসিংয়ে কোনও রেলগেটও ছিল না। ছিল না কোনও সিগন্যাল ব্যবস্থাও। ফলে, বাসের চালকও বুঝতে পারেননি। তিন রেল ক্রসিং পেরোনোর সময়, দুরন্ত গতিতে থাকা এক্সপ্রেস বাসটিকে ধাক্কা মারে। গতিতে বেশ কিছুটা টেনে নিয়ে যায় বাসটিকে। এর পর সশব্দে বাসটি ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী এক ট্যুইট বার্তায় জানান, বাসটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা নানকানা সাহিব থেকে পেশোয়ারের যাচ্ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা ও ৭ জন পুরুষ। ১৯ শিখ ধর্মাবলম্বী ছাড়া বাসটির চালক মারা গিয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের অধিকাংশই পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে দু'জন শিশুও রয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারিতেই রাতের অন্ধকারে এরকম আর একটি দুর্ঘটনায়, বাস-ট্রেন সংঘর্ষে পাকিস্তানের সিন্ধপ্রদেশে ৩০ জনা মারা যায়। সিন্ধে যাত্রিবাহী বাসে ধাক্কা মেরেছিল প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সিন্ধ প্রদেশের সুক্কুর জেলার রোহারি জংশনের কাছে লেভেল ক্রসিংয়ে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা। করাচি থেকে লাহোরের দিকে যাচ্ছিল পাকিস্তান এক্সপ্রেস। সেসময় রোহারি জংশনের কান্ধরা ক্রসিং দিয়ে একটি সারগোধাগামী বাস যাচ্ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় চুরমার হয়ে যায় বাসটি। দুর্ঘটনার সময় রেলওয়ে ক্রসিংটি রক্ষীহীন ছিল। প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি গতিতে আসছে দেখেও বাসচালক রেললাইন পেরোনোর চেষ্টা করেন। যার জেরে বিপত্তি। পাকিস্তানের রেলওয়েতে সম্প্রতি আরও বেশ কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছর নভেম্বরে করাচি-রাওয়লপিণ্ডি রুটের একটি ট্রেনে আগুন ধরে ৭০ জনের বেশি যাত্রী মারা যান। শুধু ২০১৯ সালেই পাকিস্তানের রেলওয়েতে একশোটিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/38oRXWc



