বেজিঙের হাস্যকর দাবি, ৭০ বছরে ভারতের এক ইঞ্চি জমিও চিন দখল করেনি!

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখে নতুন করে ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে বেজিং দাবি করে বসল, বিগত ৭০ বছরের মধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও চিন দখল করেনি। বেজিঙের এক মুখপাত্রের কথায়, 'লাদাখ সীমান্তে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য নয়াদিল্লিই দায়ী।' সেই প্রসঙ্গেই বেজেঙের ওই মুখপাত্র বলেন, নব্য চিনের প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরের মধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ড কেন, কোনও বিদেশি অঞ্চলের এক ইঞ্চি জমিও দখল করানি হয়নি। চিনের এই দাবি যে হাস্যকর, কোনও সারবত্তা নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে। চিনের আগ্রাসনের কারণেই ১৫ জুন রাতে পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ভারতীয় সেনা। ভারতীয় ভূখণ্ডের অনেকটাই ভিতরে ঢুকে পড়েছিল লাল ফৌজ। শুধু ঢুকে পড়া নয়, বেআইনি ভাবে অস্থায়ী কিছু নির্মাণও করেছিল। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গলওয়ান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। প্রতিরোধ গড়ে শহিদ হয়েছিলেন ২০ ভারতীয় সেনা। তার আগে লাল ফৌজের কয়েক জনকে মেরেই ভারতীয় ভূখণ্ডকে রক্ষা করেন শহিদরা। নিহতের সেই সংখ্যাটা আজ পর্যন্ত বেজিং সরকারি ভাবে ঘোষণা করে উঠতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি, নিহত সেনার সংখ্যা ভারতের থেকে বেশি হওয়ার কারণেই চিন বিষয়টি চেপে যায়। চিনের অভিযোগ, ভারতীয় সেনারা প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণ তীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে নিজেরাই ঢুকে পড়েছিল। উলটে এখন লাল ফৌজের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে প্রবেশের অভিযোগ তুলছে। চিনের মুখপাত্র জানান, ভারতের উচিত চিনের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। তিনি বলেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ভারতের তরফেও ইতিবাচক প্রচেষ্টা থাকা উচিত। বেজিঙের ওই মুখপাত্রের দাবি, নতুন চিন প্রতিষ্ঠার সত্তর বছরের মধ্যে চিন কখনোই কোনও যুদ্ধ বা সংঘাতকে উসকে দেয়নি। অন্য দেশের ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি দখলও করেনি। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, চিন সবসময় এলএসি কঠোর ভাবে মেনে এসেছে। কখনও নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেননি। বেজিঙের এই দাবির সঙ্গে যদিও বাস্তবের এতটুকু মিল নেই। ভারতীয় সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একবার নয়, গত তিন দিনে তিন বার ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছে চিন। সূত্রের খবর, ভারতের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে অন্তত ৭ থেকে ৮টি চিনা সেনার হেভি ভেহিকল। চিনের চেপুঞ্জি ক্যাম্প থেকে গাড়িগুলি এগিয়ে আসছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও যে কোনও পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। অনুপ্রবেশ রুখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে বল সেনা সূত্রে খবর। আরও পড়ুন: সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। জানা গিয়েছে, ২৯ অগস্ট রাতে প্রথম বার ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছিল লাল ফৌজ। ব্যর্থ হয়ে সোমবার ফের চেষ্টা চালায় চিনা সেনা। এটা ছিল দ্বিতীয়বার। এর পর সোমবার আরও একবার কালা টপের একেবারে কাছাকাছি চলে আসে তারা। কালা টপ আসলে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে একটি পাহাড়ি এলাকা। ২০১৪ সালে এই কালা টপে তাঁবু খাটিয়েছিল চিন। ভারতের চাপে মাস দুয়েকের মধ্যে তাঁবু খুলে সরে যেতে বাধ্য হয়। আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ১৫ জুনের চিনা আগ্রাসন হয়েছিল প্যাংগং লেকের উত্তরাংশে, কিন্তু, ২৯ অগস্ট থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে ওই লেকের দক্ষিণাংশে। ভারতীয় সেনার প্রতিরোধের মুখে পড়ে চিনের প্রতিক্রিয়া, ভারতের পদক্ষেপ চিনের সার্বভৌমত্বে আঘাত এনেছে।' বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী দু'দেশের শান্তি পরিস্থিতিকে নষ্ট করেছে। পালটা হুঁশিয়ারিও অবশ্য বেজিং দিয়েছে। সোমবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছিল, চিনা সেনারা সপ্তাহান্তে পূর্বের লাদাখ অঞ্চলে উস্কানিমূলক সামরিক সমাবেশ করছে। উত্তেজনা লাঘব করার জন্য সোমবার দু'পক্ষের সামরিক কম্যান্ডাররা বৈঠক করেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, ভারতীয় সেনারা প্যাংগং তসো হ্রদের দক্ষিণ তীরে পিএলএর এই তত্‍পরতা আগে থেকেই আঁচ করেছিল। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3bgsShT

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.