হাথরসে ঢুকতে বাধা কেন, জানাল যোগী প্রশাসন

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: হাথরসের নির্যাতিতা তরুণীর বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া তো দূর অস্ত, গ্রামের ধারেকাছে কাউকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না পুলিশ। সাংবাদিকরা ঢুকতে পারেননি। কোনও রাজনৈতিক নেতাকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ গোটা গ্রাম, বিশেষত নির্যাতিতার বাড়ি যে ভাবে ঘিরে রেখেছে, একটা মাছি গলার উপায় নেই। কেন পুলিশ কাউকে গ্রামে যেতে দিচ্ছে না, কেন সাংবাদিকরা পেশার তাগিদে ধর্ষিতার পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না, সে প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী উমা ভারতীও সে প্রশ্ন তুলেছেন। এ-ও বলেছেন, তিনি সুস্থ থাকলে দলিত তরুণীর গ্রামে গিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেন। বিরোধী রাজনীতিক, সাংবাদিকদের যাতে গ্রামে প্রবেশে বাধা না দেওয়া হয়, যোগী আদিত্যনাথের কাছে সে আর্জিও তিনি জানিয়েছেন। উমা ভারতীর মতে, হাথরসের ঘটনায় একের পর এক পদক্ষেপে বিজেপি ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ। বর্ষীয়ান বিজেপি নেত্রীর আর্জির পরেও যে যোগী সরকার সিদ্ধান্ত বদলেছে এমনটা নয়। সবমহলে যে সন্দেহ উঁকি মারছে যোগী প্রশাসন কিছু একটা আড়াল করার চেষ্টা করছে। যে সন্দেহের শুরুটা হয়েছিল তাড়াহুড়ো করে রাতের অন্ধকারে ধর্ষিতার দেহ পোড়ানোয়। শুক্রবার রাতে যোগী প্রশাসনের এক আধিকারিক স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এখন বাইরের কাউকেই হাথরসের ওই গ্রামে যেতে দেওয়া হবে না। বিশেষ তদন্তকারী দল, সিটের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার পরেই সরকার অনুমতি দেবে। প্রশাসনিক এই কর্তার বক্তব্যের সারমর্ম, তদন্ত যাতে প্রভাবিত না হয়, তার জন্য যোগী প্রশাসনকে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে হয়েছে। হাথরস প্রশাসন বৃহস্পতিবারই সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে। যার জেরে চার জনের বেশি একসঙ্গে জড়ো হতে পারবেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন হাথরসের বছর উনিশের ওই দলিত তরুণী। প্রায় দিন পনেরো ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর, গত মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই রাতেই পরিবারের সম্মতি ছাড়া দাহ করা হয় ধর্ষিতাকে। তার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলি যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়। হাথরসের নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশের নানাপ্রান্তে আন্দোলন-বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। এমত পরিস্থিতিতে বুধবার হাথরসের তদন্তে তিন সদস্যের সিট গঠন করেন যোগী আদিত্যনাথ। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দলকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। হাথরসের অতিরিক্ত পুলিশসুপার প্রকাশ কুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সিট তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। কারণ, তার আগে কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা সাংবাদিককে ওই গ্রামে যেতে দেওয়া যাবে না। আরও পড়ুন: নিজেকে মৃত দলিত তরুণীর আত্মীয় দাবি করে এক যুবক সাংবাদিকদের জানান, ওই পরিবারের কারও কাছে মোবাইল ফোন নেই। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমনকী বাড়ির বাইরেও পরিবারের সদস্যদের বেরোতে দিচ্ছে না পুলিশ। ওই যুবক আরও জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কাকা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন বলে, জেলাশাসক সাহিব তাঁকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ। তাঁর কথা অনুযায়ী, মার খেয়ে কাকার এখন বেহুঁশ অবস্থা। আরও পড়ুন: দিল্লি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উজিয়ে হাথরসে ঢোকার দেড় কিলোমিটার আগে শুক্রবার TMC প্রতিনিধি দলকে থামিয়ে দেয় বিরাট পুলিশবাহিনী। তৃণমূল প্রতিনিধিরা পুলিশকে জানান, তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ও তাঁদের সমবেদনা জানাতে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও তাঁদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তরফে বলা হয়, 'আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে হাথরসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ও তাঁদের সমবেদনা জানাতে যাচ্ছিলাম। সব নিয়ম মেনে আলাদা আলাদা ভাবে আমরা যাত্রা করছিলাম। আমাদের হাতে কোনও অস্ত্রও ছিল না। তা হলে আমাদের কেন আটকানো হল? এটা কী ধরনের জঙ্গলরাজ যেখানে একটি নির্যাতিত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে সাংসদদের আটকে দেওয়া হচ্ছে? পুলিশকে জানিয়েছিলাম আমরা হেঁটেই যাব। তা-ও যেতে দেওয়া হয়নি।' এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3cUTyFO

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.