ট্রেনের দৌড়ে তুফানকে ফেলে লাস্ট বয় দুন এক্সপ্রেস

কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়গত ছ'মাসে গোটা দেশে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ শতাংশ উন্নতি করতে পেরেছে ভারতীয় রেল। মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ নিয়মানুবর্তিতা অর্জন করে এই রাজ্যে সবচেয়ে আগে রয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। অন্যদিকে এপ্রিল মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি সময়ানুবর্তিতা অর্জন করার পরও গোটা দেশে একেবারে তলানিতে রয়েছে হাওড়া। দেশের ৬৮টি রেল ডিভিশনের মধ্যে হাওড়ার স্থান ৬৫ নম্বরে। দেরাদুন বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন? বাড়ি ফেরার টিকিটের জন্য দুন এক্সপ্রেসের কথা ভেবে থাকলে কপালে দুর্গতি আছে কিন্তু। এই রাজ্যের 'কুখ্যাত' ট্রেনগুলোর তালিকায় দুন এক্সপ্রেসের নাম বেশ উপরের দিকেই রয়েছে। সাধারণত হাওড়া ঢোকার সময় এই ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা দেরিতে ঢোকে। 'কুখ্যাত' ট্রেনের তালিকা থেকে বাদ নেই শতাব্দীর মতো তথাকথিত 'নামী' ট্রেনও। ট্রেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা আসার পথে নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস সাধারণত যাত্রীদের চার থেকে ছ' ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়। 66411149 যাত্রীদের নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে বেশ কয়েক মাস ধীর গতিতে ট্রেন চালানোর পরিণতি স্পষ্ট হওয়ার পর ফের সময়ানুবর্তিতা রক্ষার দিকে জোর দিয়েছে ভারতীয় রেল। গত এপ্রিলে গোটা দেশে ট্রেন-চলাচলের পরিসংখ্যান জোগাড় করার পর চোখ কপালে ওঠে রেলবোর্ডের কর্তাদের। দেখা যায় গোটা দেশে গড়ে মাত্র ৬০.৫ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা অর্জন করতে পেরেছে ভারতীয় রেল। এর পরই শুরু হয় ট্রেনের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ। ছ'মাসে ১৩ শতাংশ উন্নতি সেই চেষ্টারই ফল বলে মনে করা হচ্ছে। সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে পূর্বরেলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বরেল। মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতায় ১০ শতাংশেরও বেশি এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ক্ষেত্রে দুই শতাংশ উন্নতি ঘটাতে পেরেছে দক্ষিণ-পূর্বরেল। সংস্থার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলছেন, 'সাফল্যের পিছনে রয়েছে ট্র্যাকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিকল্পিত পদ্ধতিতে পাওয়ার ব্লক নিয়ে মেরামতির কাজ। যাত্রীদের সুবিধার জন্য এখন এমন ভাবে পাওয়ার ব্লক নেওয়া হয় যাতে ওই সময় সব ক'টি বিভাগ এক সঙ্গে কাজ করতে পারে।' অন্য দিকে পূর্বরেলের পাশাপাশি দুই ডিভিশন হাওড়া ও শিয়ালদহে ছ'মাস আগের মতোই চরম বৈপরীত্য এখনও বহাল। সময়ানুবর্তিতায় কিছুটা অবনতি হলেও মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে শিয়ালদহ এবারও ৯০ শতাশের বেশি সময়ানুবর্তিতা অর্জন করতে পেরেছে। প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা প্রায় ৮৮ শতাংশ। অন্য দিকে মেল ও এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে হাওড়ার সময়ানুবর্তিতা মাত্র ৫৭.৫ শতাংশ। পূর্বরেলের সবচেয়ে দেরিতে চলা ট্রেনগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই হাওড়ার। এই তালিকায় রয়েছে দিল্লি-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো 'দ্রুতগামী' ট্রেনও। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা তো বটেই এমনকি রেলকর্মীদের একাংশও জানাচ্ছেন, গড়ে তিন-ঘণ্টা দেরিতে হাওড়ায় আসা এই ট্রেনের দৈনন্দিন ঘটনা। পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র তাঁর সংস্থার পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে বলছেন, 'আমাদের ট্রেন বেশিরভাগই উত্তর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। মুঘলসরাইয়ের পর লাইনে ট্রেনের ভিড় দেরির একটা বড় কারণ। সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমরা অনেকটা উন্নতি করতে পেরেছি। আরও করব। তালিকার কত নম্বরে রয়েছি সেটা বড় কথা নয়।'

from Eisamay https://ift.tt/2DcY6YM

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.