এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: সারা জীবন কঠিন পরিশ্রম করার পরে ছেলেকে আইপিএস অফিসার হতে দেখে গর্বিত পুলিশকর্মী বাবা। ঘটনাচক্রে ছেলেই এখন তাঁর 'বস'।বুকের ছাতি ফুলে উঠেছে গর্বে বিভূতি খণ্ড থানার কনস্টেবল জনার্দন সিংয়ের, কারণ তাঁর ছেলে অনুপকুমার সিং স্বয়ং এখন তাঁর উর্ধ্বতন অফিসার। গত শনিবার লখনউয়ের (উত্তর) এসপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ২০১৪ সাল ব্যাচের আইপিএস অফিসার অনুপকুমার।ছেলেকে নিজের বস হিসেবে দেখতে কেমন লাগছে? এই সময়-এর প্রশ্নের জবাবে আবেগে গলার স্বর বুজে আসে জনার্দনের, 'ও প্রথমে একজন অফিসার, তার পরে আমার ছেলে। যে কোনও অফিসারের মতোই আমি ওকে স্যালুট করব, ওর নির্দেশ মেনে চলব। আমার প্রধান লক্ষ্যণীয় বিষয় হবে যাতে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কর্মক্ষেত্রে কোনও প্রভাব না ফেলে।'অন্য দিকে বাবাকে অধস্তন কর্মী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনুপও। সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, 'বাবা বরাবর আমার অনুপ্রেরণা। প্রতি সকালে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আমার দিন শুরু হয়। ওঁর আদর্শ মেনেই বড় হয়েছি।'অনুপ আরও জানিয়েছেন, 'বাবা কখনও পড়াশোনা করতে বা খেলাধুলো করার ব্যাপারে জোর খাটাননি। উলটে ভাগ্য ও নিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সর্বদা বলেছেন, যা-ই করবে তা মন দিয়ে করবে। যদি তুমি বাগানের মালি হও, প্রতিটি গাছকে নিজের সন্তান হিসেবে যত্ন নেবে।'ছোটবেলার কথা বলতে গিয়ে অনুপ জানিয়েছেন, 'এখনও মনে পড়ে, বারাবাঁকির স্কুলে প্রতিদিন বোন মধু আর আমাকে সাইকেলে বসিয়ে পৌঁছে দিতেন বাবা। সংসারে অর্থাভাব ছিল, কিন্তু তার আঁচ আমাদের পড়াশোনায় কখনও পড়তে দেননি। স্কুলের মাইনে দেওয়া বা পড়ার বই কিনে দেওয়ার জন্য তিনি সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে রোজগার করেছেন। ডিউটিতে ব্যস্ত থাকার জন্য বাবার সঙ্গে মাসের পর মাস দেখা হত না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের পড়াশোনার ব্যাপারে সবসময় ওঁর নজর থাকত।'লখনউতে একই বাড়িতে বসবাস করেন পিতা-পুত্র। করওয়া চৌথের দিন সকালে দেখা গেল, ব্রতর জন্য পুত্রবধূ আনশুলকে নিয়ে খুঁটিনাটি কাজ সারছেন অনুপের মা কাঞ্চন। উঠোনে নাতনি যশশ্বীনিকে নিয়ে খেলছিলেন পরিবারের কর্তা জনার্দন। জানা গেল, বহু বছর পরে এবার একসঙ্গে দীপাবলি পালন করবে গোটা পরিবার। অনুপের বোন মধুর শ্বশুরবাড়ি আবার প্রতাপগড়ে। উত্সবের দিনে তিনিও যোগ দেবেন বলে জানালেন কাঞ্চন। তাঁর কথায়, 'বাড়িতে কোনও এসপি-কনস্টেবলের ব্যাপার নেই। সবাই একসঙ্গে প্রাতরাশে বসি। অনুপ বরাবরই মেধাবী ছাত্র ছিল। খেলাধুলোতেও সমান উত্সাহ ছিল। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করার পরে ওর দক্ষতা সম্পর্কে আমরা নিঃসন্দেহ হই। ভূগোল নিয়ে ও স্নাতকোত্তর পাশ করে। তার পরে আর ওকে রোখা যায়নি।'
from Eisamay https://ift.tt/2qgIQSe



