বাংলায় নজির, উত্তরপত্র মূল্যায়ন হবে অনলাইনে

বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোলপরীক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব কলেজে এ বার উত্তরপত্রের মূল্যায়ন করা হচ্ছে অনলাইনে। এ মাস থেকে চালু হয়েছে নয়া পদ্ধতি। প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনেই দেখে নিতে পারবেন নিজেদের উত্তরপত্র। একই ভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে অনলাইনে। এই পরিষেবা দিতে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।উচ্চশিক্ষায় অনলাইনে ভর্তি এখন পুরোনো ধারণা। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নয়া ভাবনা এনে চমকে দিল নবীন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বার থেকে খাতা দেখা হবে অনলাইনে। পশ্চিম বর্ধমানের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০টি কলেজ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। কীভাবে দেখা হবে খাতা? উপাচার্য বলেন, ‘উত্তরপত্র প্রথমে স্ক্যান করা হবে। সেগুলি তারপর আপলোড করা হবে ই-ফাইলে। এই ই-ফাইল তৈরি করছে একটি সংস্থা। ওই ফাইলে গিয়ে পরীক্ষকরা খাতা দেখতে পারবেন, নম্বর দিতে পারবেন। তাঁরা উত্তরপত্র দেখার পর সেটি লক হয়ে যাবে।’ অনলাইনে কোন প্রশ্নে কত নম্বর পরীক্ষার্থী পাচ্ছেন, তা উল্লেখ করার বিশেষ পদ্ধতি থাকবে। সেকেন্ড সেমেস্টারের খাতা ইতিমধ্যেই স্ক্যান করা শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিকাঠামো জোগাচ্ছে ওই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি।এই উত্তরপত্রের ভিত্তিতে ফল প্রকাশিত হবে। পরীক্ষার্থীদের কাছে থাকবে পাসওয়ার্ড। তার সাহায্যে ওই ই-ফাইলে গিয়ে তাঁরা মূল্যায়িত উত্তরপত্র দেখতে পারবেন। এক পরীক্ষার্থী অন্যের খাতা দেখতে পারবেন না। যদি প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে অসন্তোষ থাকে, তাহলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির কাছে আবেদন জানাতে পারবেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রেও আগের পদ্ধতি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনেই খতিয়ে দেখা হবে, পরীক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না। উপাচার্যের বক্তব্য, এত দিন ফের খাতা দেখে নতুন ভাবে নম্বর দিতে অনেকটা সময় লেগে যেত। এখন আর সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না। হাজার হাজার উত্তরপত্রের মধ্যে থেকে একটি খাতা খুঁজে বের করার ঝক্কি থাকবে না। ই-ফাইলে গিয়ে দেখা যাবে, পরীক্ষার্থী ঠিক নম্বর পেয়েছেন কি না। তাঁর অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। উপাচার্যের মতে, ‘শুধু দ্রুত হবে তাই নয়, এতে পুরো প্রক্রিয়ায় খুব স্বচ্ছতা থাকবে। এটা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে খুব ইতিবাচক।’শিক্ষক থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আসানসোল গার্লস কলেজের উপাধ্যক্ষ সন্দীপ ঘটক বলেন, ‘এটা দারুণ উদ্যোগ। কিন্তু, বেশ কয়েকজন প্রবীণ অধ্যাপক আছেন, যাঁদের কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ দিলে ভালো হয়। তবেই তাঁরা ঠিক ভাবে খাতা দেখতে পারবেন।’ রানিগঞ্জ টিডিবি কলেজের অধ্যক্ষ আশিস দে বলেন, ‘এমন উদ্যোগ রাজ্যে প্রথম নিল আমাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে খুব ভালো হল। এ বার আমাদেরও ঘন ঘন সব দপ্তরে ফোন করতে হবে না। সহজে কাজটা হয়ে যাবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদর্শ শর্মা বলেন, ‘পরিকল্পনা ভালো। কিন্তু, কার্যকরী ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা নজরে রাখতে হবে। পরীক্ষা ও ভর্তি নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আশা করি, খাতা দেখা নিয়ে নতুন কোনও সমস্যা হবে না। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের খাতা দেখবেন, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

from Eisamay https://ift.tt/2CQpxH8

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.