নেতারা কথা রাখেন, বলছে আইএসআই গবেষণা

জয় সাহানেতারা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কিছুই পূরণ করেন না। এমনই ধারণা জনমানসে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলার জনপ্রতিনিধিরা দরাজ সার্টিফিকেট আদায় করে নিলেন।ভারত সরকারের নামজাদা শিক্ষা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বা আইএসআই, কলকাতা এবং ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা বলছে, দলমত নির্বিশেষে বাংলার জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা করেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার। বাংলার অন্তত ৮৩ শতাংশ জনপ্রতিনিধি নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। এমটাই দাবি করছেন আইএসআই কলকাতার গবেষকরা। লোকসভা নির্বাচনের মতো বড় যুদ্ধের সময় এই সমীক্ষা স্বস্তি দিতে পারে সব রাজনৈতিক দলকেই। তবে ২০১১ থেকে রাজ্যে সরকার পরিচালনা এবং বাংলার সিংহভাগ পঞ্চায়েত ও পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এই কৃতিত্বের বেশিটাই তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-জনপ্রতিনিধিদের প্রাপ্য।আইএসআই কলকাতা এবং ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথ ভাবে দেখতে চেয়েছিলেন, এই যে ভোটের সময় নেতারা এত রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন, ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি তাঁরা কতটা রাখতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দফায় দফায় এই রাজ্যের নানা কেন্দ্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন আইএসআইয়ের অধ্যাপক সন্দীপ মিত্ররা। রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ সব পক্ষের সঙ্গেই কথা হয় তাঁদের। সন্দীপদের দাবি, রাজ্যের অন্তত ৮৩ শতাংশ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন। এই পরীক্ষার জন্য পঞ্চায়েত স্তরের নানা কাজকর্ম দেখা হয়েছিল। সন্দীপের বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আমরা উত্তরপ্রদেশে একই রকম পরীক্ষা চালিয়েছি। দু’রাজ্যেরই ফলাফল সদর্থক। তবে, উত্তরপ্রদেশের তুলনায় বাংলায় সিদ্ধান্ত রূপায়ণে নিচুতলার অংশগ্রহণ অনেক বেশি।’গবেষণার ব্যাখ্যা, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির ধরন একজন রাজনীতিবিদের ভাবমূর্তি তৈরি করে দেয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ভাবমূর্তি রক্ষা করতে মরিয়া থাকেন তাঁরা। গবেষণা বলছে, কাজ করতে পারেননি-- এমন তকমা যাতে গায়ে না পড়ে যায়, এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরা যথেষ্ট সচেতন থাকেন। এর থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য অনেকে আবার মানসিক চাপেও থাকেন। যা অনেক সময় প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সাহায্য করে। বাম রাজনৈতিক বিশ্লেষক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘এতদিন গ্রামে কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল না। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একটা ঘর তৈরি হল। সেটা একরকম ভাবে প্রতিশ্রুতি পূরণ। সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই ডাক্তার আছেন কি না, তার প্রভাবও কিন্তু নির্বাচনে আর এক রকম ভাবে পড়ে।’ অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের বক্তব্য, ‘পাঁচ বছর অন্তত রাজনীতিবিদদের ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। তাই পোড় খাওয়া রাজনীতিকরা যা বলছেন, তা করার অন্তত কিছুটা চেষ্টা তো করবেনই। এখানে সেটাই উঠে এসেছে।’

from Eisamay https://ift.tt/2JveQhR

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.