কমিশনে ক্ষুব্ধ মমতার ডাক, বাংলার অপমানের বদলা দেবে মানুষ

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শেষদফায় ভোটের আগে বাংলায় যে ভাবে সংবিধানের ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করে, নির্বাচনী প্রচারের সময় একদিন কমিয়ে দেওয়া হল, তা 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে উল্লেখ করেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, এই সিদ্ধান্ত কমিশনের নয়। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নির্দেশেই চলছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিমত, এই সিদ্ধান্ত বাংলার আত্মমর্যাদায় আঘাত করেছে। বাংলাকে অপমান করল কমিশন। এমন কমিশন তিনি আগে দেখেননি বলেও অভিমত প্রকাশ করেন। বুধবার সকালেই অমিত শাহ সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দেন। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিতের সেই বৈঠকের উল্লেখ করে বলেন, অমিত শাহের হুঁশিয়ারিতেই নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যে ৩২৪ ধরা প্রয়োগ করা হল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি 'অসাংবিধানিক' ও 'অনৈতিক' বলে উল্লেখ করেন। মমতা কমিশনের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অমিত শাহ কলকাতায় লোক এনে হামলা করল, অথচ তাঁকেই পুরস্কৃত করল কমিশন। অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেন, অমিত শাহ দাঙ্গা করতেই কলকাতায় এসেছিলেন। অমিত শো'য়ে বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছিল বলে ফের এদিন অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতায় গন্ডগোল পাকানোর পরেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির বিরুদ্ধে কেন কমিশন ব্যবস্থা নিল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কমিশন যে পক্ষপাতদুষ্ট তা বোঝাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কেন বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারে সময় দেওয়া হল? কেন সন্ধের মধ্যে প্রচারের সময়সীমা বেধে দেওয়া হল না? তৃণমূল সুপ্রিমোর যুক্তি, নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচারের কথা মাথায় রেখেই এটা করা হয়েছে। কারণ, বৃহস্পতিবার মোদীর দু'টি সভা রয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক তৃণমূল যে সমস্ত অভিযোগ করেছে, তা নিয়ে কমিশন কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আক্রমণ করতে ছাড়েননি নরেন্দ্র মোদীকেও। মমতার কথায়, মোদী লড়াই হেরে গেছেন। গণতন্ত্রের লড়াই তিনি হারবেন। বাংলার বদনাম করতে চাইছেন। গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চাইছেন। এ ভাবে বিজেপি যে লড়াই জিততে পারবে না, তা-ও তিনি স্পষ্ট করে দেন। কমিশনের শোকজেও যে তাঁর এতটুকু মাথাব্যথা নেই, তা-ও বলেন মমতা। 'বাংলার জন্য, বাংলার মানুষের জন্য আমি ৫০টা শোকজ খেতেও রাজি।'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে নির্বাচনের কাজে ব্যাঘাত ঘটলে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানের ৩২৪ ধারা প্রয়োগের বিধান রয়েছে। স্বাধীন ভারতে পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম এই ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের উদ্দেশে মমতার তোপ, ষষ্ঠ দফা ভোট হয়ে গিয়েছে, বাংলায় ক'টা অশান্তি হয়েছে? কেশপুর ও ভাটপাড়ার দু'টি অশান্তির দায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘাড়ে চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যপুলিশকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করানো হচ্ছে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা তিনি নস্যাত্‍‌ করে দেন। ভোটের মধ্যে রাজ্যের স্বরাষ্টসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হল, তারও সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজীব কুমারের বদলি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। রাজ্যের এডিজি-সিআইডি রাজীব কুমারকে তুলে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে রাজীব কুমারকে সেখানে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, 'রাজীব কুমারের উপর এত রাগ কেন? উনি হাওয়ালা ধরেছেন বলে?' আত্মবিশ্বাসী মমতার কথায়, বাংলার মানুষ এই অপমানের জবাব দেবেন।

from Eisamay http://bit.ly/2w0UIKW

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.