দ্বিতীয় ধাপে ২৭৩ জনের শরীরে ভ্যাকসিন পরীক্ষা চালাল চিন

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার থাবায় গোটা বিশ্ব লন্ডভন্ড। কাউকেই রেয়াত করেনি। না আমেরিকা, না ব্রিটেন, না ফ্রান্স-জার্মানি, না রাশিয়া। বিশ্বের শক্তিধরেরা এই ভাইরাসের কাছে অসহায়। রোজ হাজারে হাজারে মানুষ মরছে। বিপর্যস্ত গর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা। নিজেকে বাঁচাতে বিশ্বসুদ্ধ ঘরবন্দি। মুখ থুবড়ে অর্থনীতি। ভ্যাকসিন খুঁজছে সবাই। কিন্তু, প্রতিনিয়ত নিজের চরিত্র যে ভাবে বদলে ফেলছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস, গবেষকদের কাছে এর মতিগতি বোঝাই অসম্ভব হয় পড়েছে। তবুও, হাল ছাড়েননি গবেষকরা। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানী বিনিদ্ররজনী কাটাচ্ছেন গবেষণাগারে। ভ্যাকসিনের সন্ধানে। শুধু করোনাকে কাহিলে ৭০টির বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজারে করোনা ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভ্যাকসিন তৈরির এই লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা চিন, আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এরই মধ্যে দ্বিতীয় বার মানবশরীরে পরীক্ষা চালাল। দ্বিতীয় ধাপে মোট ২৭৩ জনের উপর এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে। চিনা বিজ্ঞানীরা স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে ২৭৩ জনের শরীরে ঠেকানোর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। এ ছাড়া করোনারই আরও দু'টি নতুন ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে চিনা মিডিয়া সূত্রে খবর। চিনের স্টেট কাউন্সিলের জয়েন্ট প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ম্যাকানিজমের তরফে জানানো হয়, তারা বর্তমানে তিনটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে কাজ করছে। প্রথম ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয় মার্চের শেষে। তখন সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১২ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধাপে ষাটোর্ধ্বদের উপর ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে জানান চিনের শীর্ষস্থানীয় এপিডেমিয়োলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্ট চেন ওয়ে। চেন ওয়ের দাবি, এই ভ্যাকসিনটি মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করবে। করোনাভাইরাসের ভাইরাল অংশ এস জেনেটিক সিকুয়েন্সের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে ভ্যাকসিনটি। একবার ভাইরাস সংক্রমণ হলে, শরীর এই এস জিন এবং পুরো ভাইরাস শনাক্ত করে, প্রতিরোধ করবে। অন্য দু'টি ভ্যাকসিন তৈরি করছে চিনা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপের উহান ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস ও বেজিং ভিত্তিক সিনোভাক বায়োটেক। এই দু'টি ভ্যাকসিন করোনার নিষ্ক্রিয় অণুজীব দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছে চিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত সব দেশ মিলিয়ে মারা গিয়েছেন ৬,২৮৪ জন। তার মধ্যে চিনেরও একজন রয়েছেন। মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৮৪। আক্রান্ত ২০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৫৩। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লক্ষের বেশি।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2XAvuSV

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.