অ্যানাকোন্ডার খাঁচা নিয়ে বেজায় খুঁতখুঁতে কর্তৃপক্ষ

কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায় মিস্ত্রিদের কাজে রীতিমতো বিরক্ত আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা। আর কিছুদিনের মধ্যেই চিড়িয়াখানার 'স্টার অ্যাট্রাকশন' হতে চলেছে চারটে অ্যানাকোন্ডা। অথচ এখনও তাদের এনক্লোজারের বিভিন্ন বিষয় ঠিক মনের মতো হয়নি তাঁর। তাই রোজ এনক্লোজারের নকশা হাতে মিস্ত্রিদের খানিক বকাবকি করছেন তিনি। চেন্নাই স্নেক পার্ক থেকে কলকাতায় আনা হবে ভেনেজুয়েলার জঙ্গলের বাসিন্দা এই চারটি সাপ। যাদের থাকার জন্য বিশেষ এনক্লোজার তৈরি হচ্ছে গন্ডারের আস্তানার ঠিক পাশে। কিন্তু সেই এনক্লোজারের কাজে কিছুতেই মন ভরছে না অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্তর। এনক্লোজারের সামনে থাকবে ৩০ ফুট লম্বা বিশেষ ভাবে শক্ত করা কাচের (টাফেনড গ্লাস) দেওয়াল। যার ভিতরের সজ্জা তৈরি হচ্ছে অ্যামাজন রেনফরেস্টের আদলে। এনক্লোজারের ঠিক মাঝখানে থাকবে একটা ঝরনা। দু'দিক থেকে জলের দু'টো ধারা বেরিয়ে একটি ধারায় মিশে গিয়ে পড়বে একেবারে নীচের জলাশয়ে। টাফেনড গ্লাসের দেওয়াল ওই জলাশয়ের আট ইঞ্চি গভীরতা থেকে উঠে আসবে। এনক্লোজারের বাসিন্দারা যদি জলের নীচে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, তাহলেও ডিসপ্লে ওয়ালের ও পারে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা তাদের দেখতে পাবেন সহজে। জল ঘোলাটে হয়ে গিয়ে দর্শকদের যাতে দেখতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে জন্য নিয়মিত এই জল বদলে ফেলার ব্যবস্থা থাকবে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় অ্যানাকোন্ডার বাসস্থান নিয়ে অভিনব পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। অধিকর্তা বলছেন, 'এনক্লোজারের মাটি থেকে ছাদ পর্যন্ত সবকিছুর মধ্যেই চমক থাকবে। ছাদ তৈরি হচ্ছে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ - দু'ধরনের পলিভিনাইল শিট দিয়ে। এর ফলে সূর্যের চলনের সঙ্গে এনক্লোজারে রোদের আলোও ঘুরে যাবে। এনক্লোজারে সব সময়ই রোদ থাকবে।'চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এনক্লোজারের মধ্যে অ্যানাকোন্ডাদের স্বাভাবিক পরিবেশে রাখার জন্য একটা জঙ্গল তৈরি করা হবে। এনক্লোজারের দেওয়ালজুড়ে আঁকা থাকবে জঙ্গল ও জলাভূমির দৃশ্য। কৃত্রিম সেই জঙ্গলের গাছ থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে নানা ধরনের অর্কিড। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছেন, যাতে অ্যানাকোন্ডার শিকারের প্রবৃত্তি নষ্ট না হয়, সে জন্য এনক্লোজারের মধ্যে জলাশয়ে মাছ ছাড়া থাকবে। আপাতত ঠিক হয়েছে, সাপগুলোকে নিয়মিত মুরগি ও মাছ খেতে দেওয়া হবে। অধিকর্তা জানাচ্ছেন, অ্যানাকোন্ডার এনক্লোজারের সঙ্গে আরও দু'টো কক্ষ থাকবে। একটা কক্ষে সব সময়ের জন্য একজন 'কিপার' থাকবেন। অন্য কক্ষ সাপের চিকিৎসার জন্য। এ ছাড়া শীতকালের কথা মাথায় রেখে এনক্লোজারের মধ্যে রাখা হবে দু'টো হিট চেম্বার। মে মাসের মধ্যেই এই এনক্লোজার অ্যানাকোন্ডার বসবাসের উপযুক্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

from Eisamay http://bit.ly/2VFqZGK

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.