এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গরমের ছুটি থাকায় স্কুলে মিড ডে মিলের জন্য লাগানো সবজি বাগান যাতে শুকিয়ে না যায়, তাই গাছে জল দিতে এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক। গুটিসুটি পায়ে সেখানে হাজির সুপ্রিয়া, রিয়া, মৈত্রীরা। ‘কী ব্যাপার?’, অবাক গলায় প্রশ্ন করেন হেড স্যার। জবাবে শোনেন, ওরা গত রাতেই খবর পেয়েছে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। তা শুনে ওদের ভীষণ মন খারাপ।ওদের কারও বাবা দিনমজুর, কেউ বা খেত মজুর। ওদের বেশির ভাগই পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। তাই বাড়িতে এ নিয়ে আলোচনার বিশেষ অবকাশ পায়নি। হেড স্যার স্কুলে এসেছেন শুনে তাই ওরা সোজা চলে এসেছে স্কুলে। এর পরই ওদের আবদার, ‘স্যার, আপনার রুমে টাঙানো বিদ্যাসাগরের ছবিটায় আমরা শ্রদ্ধা জানাতে চাই।’এহেন আবদার না রেখে কি উপায় আছে? সঙ্গে সঙ্গে ছবি নামিয়ে দিলেন মাস্টারমশাই। স্কুলের বাগানের ফুল তুলে আনল ওরা। কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ল আলপনা দিতে। স্কুল প্রাঙ্গন সাজিয়ে তুলে শ্রদ্ধা জানাল শ্রীনিকেতনের প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল রজতপুর ইন্দ্রনারায়ন বিদ্যাপীঠের পড়ুয়ারা।প্রধান শিক্ষক দীপ দত্ত বলেন, ‘খেত মজুর পরিবারের ছেলেমেয়েরা আজ নজির গড়ল। একটা মূর্তি ভাঙলেও তাঁর আদর্শ কিন্তু বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। ওদের এই কাজকে আমি সম্মান জানাই।’
from Eisamay http://bit.ly/2w1TSOo



