প্রধানের নামে নালিশে বাহিনীর মনোবলে ধাক্কা, মত প্রাক্তনদের

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বছর চোদ্দ আগের ঘটনা। সামনেই ছিল কলকাতা পুরসভার ভোট। লালবাজারে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে উঠে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাহিনীর উদ্দেশে বলেছিলেন, গ্রেপ্তার করতে হবে সমস্ত অপরাধীকে। তাতে শাসক-বিরোধী রং দেখতে হবে না। হাততালির ঝড় উঠেছিল লালবাজার চত্বরে। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক বার রং না-দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তাঁর উত্তরসূরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধেই যদি রাজনৈতিক রংয়ের অভিযোগ ওঠে? এবং সেই অভিযোগ যদি তোলেন খোদ প্রশাসনিক পদে থাকা কেউ? তা হলে গোটা বাহিনীরই মনোবলে ধাক্কা লাগে। এমনই মত প্রাক্তন পুলিশকর্তাদের। তাঁদের বড় অংশই মনে করছেন, দল-মত না-দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা যেমন বাহিনীকে উৎসাহিত করে, তেমনই বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে আখেরে ক্ষতি হয় বাহিনীরই। পুলিশের উপর সাধারণ নাগরিকের আস্থাও ধাক্কা খায়।ভোটের সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুদায়িত্বের পদে রদবদল সাম্প্রতিক অতীতে প্রথম হয়েছিল ২০১১ সালে। তবে সে বার পক্ষপাতের অভিযোগে নয়, তিন বছরের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় সরতে হয় তৎকালীন সিপি গৌতমমোহন চক্রবর্তীকে। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটের সময়ে অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগেই নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেয় কলকাতার তদানীন্তন সিপি রাজীব কুমারকে। দায়িত্বে আসেন সৌমেন মিত্র। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে এ বার লোকসভা ভোটে। কলকাতার সিপি অনুজ শর্মা ও বিধাননগরের সিপি জ্ঞানবন্ত সিংকে নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করতে না-পারার অভিযোগে কমিশন সরিয়ে দেয়। কলকাতার সিপি হন রাজেশ কুমার। বিধাননগরের দায়িত্ব পান নটরাজন রমেশবাবু।অতীতে সিপি বদল হলেও এ ভাবে বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে কিন্তু কখনও ‘নিজেদের লোক’ অভিযোগ সরাসরি তোলেননি কোনও প্রশাসনিক প্রধান। এ বার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। মুখমন্ত্রী বার বার অভিযোগ করেছেন, বিজেপির টাকা পাচারের সুবিধার জন্য সিপি বদল করা হয়েছে।

from Eisamay http://bit.ly/2vZKVVt

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.